
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এই সভায় দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সংগঠকগণ অংশ নেন। সভায় নেতারা দেশ থেকে শোষণ ও লুটপাটকারীদের মূলোৎপাটন এবং জুলাইয়ের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু তার বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক মাইলফলক। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরাজিত শক্তি পরিকল্পিতভাবে জুলাইয়ের চেতনাকে হেয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আর কখনো ফিরতে পারবেন না, বরং দেশের জনগণ এখন ন্যায়বিচার ও মর্যাদার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর।
সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের দুর্নীতি ও লুটপাটের বিচারিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা এখনো চলছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষা না করে মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখাই জুলাইয়ের অঙ্গীকার পূরণের একমাত্র পথ।
জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যরা এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সংগঠকগণ সভায় তাদের আবেগঘন স্মৃতিচারণ ও দাবি তুলে ধরেন। শহীদ জননী রোকেয়া বেগম ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানানোর পাশাপাশি সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম জুলাইয়ের গণহত্যা ও গুমের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ তরুণ প্রজন্মের এই অর্জনকে সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সামগ্রিকভাবে, সভায় বক্তারা জুলাইয়ের চেতনাকে সমুন্নত রেখে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।